নীড়ে ফেরার সূচনা। "হেদায়েত " SAIFUL ISLAM OFFICIAL
মানবতার হিদায়েতের জন্য আল্লাহ তা'য়ালা অচিরাৎ ১ লক্ষ ২৪ হাজার বা ২ লক্ষ ২৪ হাজার নবী রাসুল প্রেরণ করেছেন এ ধরণীতে। তাঁদের মধ্যে সর্বশেষ হযরত মোহাম্মদ সাঃ। তিনি সাম্যের বাণী দিয়ে মানুষকে কল্যাণের পথে আহ্বান করেছেন।যাতে করে সকল উম্মাহ হিদায়েতের শিবিরে একাকার হয়ে যায়।
কেবল তারাই রাসুলের ডাকে সাড়া দিয়েছে,যারা হিদায়াতের জন্য মনোনীত হয়েছেন আল্লাহর কাছে।
কারণ তাওফিক ও হিদায়েত আল্লাহ্র হাতে। তিনি যাকে হিদায়েত দিতে চান তাকে হিদায়েত দেন; আর যাকে পথভ্রষ্ট করতে চান তাকে পথভ্রষ্ট করেন। আল্লাহ্তাআলা বলেন: "এটা আল্লাহ্র পথনির্দেশ, তিনি তা দ্বারা যাকে ইচ্ছা হিদায়াত করেন। আল্লাহ্যাকে বিভ্রান্ত করেন তার কোন হিদায়াতকারী নেই।"[সূরা যুমার, ৩৯:২৩] তিনি আরও বলেন: "আল্লাহ্যাকে ইচ্ছা পথভ্রষ্ট করেন এবং যাকে ইচ্ছা সঠিক পথে রাখেন।"[সূরা আনআম, ৬:৩৯] তিনি আরও বলেন: "আল্লাহ্যাকে পথ দেখান সে-ই পথ পায় এবং যাদেরকে তিনি পথভ্রষ্ট করেন তারাই ক্ষতিগ্রস্ত।"[সূরা আল-আরাফ, ৭:১৭৮]
হিদায়েত শব্দটা ছোট কিন্তু এর ব্যাখ্যা-বিশ্লেষণ বহুবিস্তৃত।হিদায়েত যে কেউ পাওয়ার যোগ্য না, কারণ আল্লাহ যাকে হিদায়েত দিতে চান বা হিদায়েতের ছায়াতলে আশ্রয় দিতে চান, কেবল তাকেই হিদায়েত দেন।
এই আয়াতটা খুব অন্তরে লাগে!
তুমি যাকে ভালোবাসো তাকে হেদায়েত করতে পারবে না তাকে সৎ পথে আনতে পারবে না।
তবে আল্লাহ যাকে ইচ্ছা হেদায়েত দান করেন এবং যাকে ইচ্ছা সৎ পথে আনেন।
এবং কে সৎ পথে আসবে তা তিনিই ভালো জানেন। (সূরা আল কাসাস, ৫৬)
তাহলে শুকরিয়া আদায় করেন সেই রবের যিনি পৃথিবীতে এতগুলা মানুষ থাকতে আপনাকেই হেদায়েতের জন্য বেছে নিয়েছেন।
আলহামদুলিল্লাহ
কিন্তু আরেকটি কথা! হিদায়েত শুধু মুসলমান হয়েছি বা আল্লাহর উপর একত্ববাদ এবং মুহাম্মদ সাঃ কে শেষ নবী হিসেবে স্বীকার করেছি'র মাঝে সীমাবদ্ধ নয়। যদি স্বীমাবদ্ব হতো এর মাঝে, তাহলে দিনে পাঁচ ওয়াক্ত হিদায়েত তালাশ করার জন্য তাগিদ দিতেন না বটে।
দেখুন আমরা নামাজে দাড়িয়ে সুরা ফাতিহা'র মাঝে হিদায়েত তালাশ করি।
اِهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُستَقِيْمَ
‘হে আল্লাহ! আমাদেরকে সরল সঠিক পথ প্রদর্শন করুন ’ (ফাতিহা ৬) অর্থাৎ হেদায়াত দিন । আব্দুল্লাহ ইবনে আববাস (রাঃ) হ’তে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, জিবরাঈল (আঃ) বলেছিলেন, হে মুহাম্মাদ (ছাঃ)! আপনি বলুন, اِهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيْمَ অর্থাৎ ‘আমাদেরকে হেদায়াত বিশিষ্ট পথের উপর প্রতিষ্ঠিত করুন। তা হ’ল আল্লাহর দ্বীন, যার মধ্যে কোন বক্রতা নেই। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, আল্লাহ তা‘আলা ‘ছিরাতে মুস্তাক্বীম’-এর একটা দৃষ্টান্ত বর্ণনা করেছেন। তাহ’ল এই যে, ঐ পথের দুই দিকে দু’টি প্রাচীর রয়েছে, তাতে কয়েকটি খোলা দরজা আছে, দরজাগুলোর উপর পর্দা লটকানো রয়েছে। আর ছিরাতে মুস্তাক্বীমের প্রবেশ দ্বারে সব সময়ের জন্য একজন আহবানকারী নিযুক্ত আছেন। তিনি বলছেন ‘হে জনমন্ডলী! তোমরা সবাই এই সোজা পথে চলো, আকা-বাঁকা পথে চলোও না। তাহ’লে তোমরা পথভ্রষ্ট হয়ে যাবে।[1]
উপরের আলোচনা হ’তে জানা যায় যে, স্বয়ং আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)-কে জিব্রাঈল (আঃ) হেদায়াত চাইতে বলেছেন। অতএব যারা রাসূল (ছাঃ)-এর খাঁটি উম্মতের দাবীদার হবেন, তাদের সকলকেই হেদায়াত চাইতে হবে। কিন্তু আমরা যারা মহান আল্লাহর দরবারে প্রতিনিয়ত হেদায়াত চাই, তাদের চাওয়ার পথ ও পদ্ধতি কেমন তা একটু খতিয়ে দেখা দরকার। নইলে আমাদের চাওয়া ও পাওয়া সত্যিই সত্যি ব্যর্থ হবে, তাতে বিন্দুমাত্র সন্দেহ নেই।
صِرَاطَ الَّذِيْنَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ ‘সেসব লোকদের পথ যাদেরকে আপনি নে‘মত দান করেছেন’ (ফাতেহা ১/৬)। নে‘মতপ্রাপ্ত কারা? তাঁরা হ’ল- مِّنَ النَّبِيِّيْنَ وَالصِّدِّيْقِيْنَ وَالشُّهَدَاء وَالصَّالِحِيْنَ ‘নবীগণ, ছিদ্দীক্বগণ, শহীদগণ ও নেক্কারগণ’ (নিসা ৪/৬৯-৭০)।
নামাজ না পড়া ইসলামের যাবতীয় আদেশ-নিষেধ অমান্য করা কিন্তু পরিপূর্ণ হিদায়েত না! হিদায়েত শব্দটা জুড়ে রয়েছে গোটা ইসলাম, আল্লাহ ও নবী রাসুলদের এবং শেষ নবী হযরত মোহাম্মদ সাঃ এবং ইসলাম এবং শরিয়তের পরিপূর্ণ হক্ব আদায় করা।
নীড়ে ফেরার সূচনা
মোঃ সাইফুল ইসলাম

Comments
Post a Comment