জুুমুআর দিনের আমল এবং ফজিলত SAIFUL ISLAM OFFICIAL

জুমুআর দিনের আমল এবং ফজিলত সপ্তাহের দিনগুলোর মধ্যে সর্বাপেক্ষা শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাপূর্ণ দিন জুমুয়ার দিন। মানুষ এ দিনে আল্লাহ তা'য়ালার কাছে সবচেয়ে বেশি নিয়ামত লাভ করেছে। এদিনে সৃষ্টির অনেক গুরুত্বপূর্ণ কারণে শুক্রবার ফজিলতপূর্ণ। তাই বান্দার শুক্রবারের সালাত,দোয়া,আমল, ইত্যাদি আল্লাহর কাছে অনেক মূল্যবান। আল্লাহ তা'য়ালা ইচ্ছা করলেন,তার বান্দারা সপ্তাহে একদিন সবাই একত্রিত হোক। এবং সবাই মিলে তাঁর ইবাদত করুক আর সে দিনটি বাচাই করলেন শুক্রবার দিনকে। কারণ এ দিনটি অনেক দিক থেকে মর্যাদাপূর্ণ-মূল্যবান। তাই কোরআনে এ দিনের সালাতের ব্যাপারে আল্লাহ তা'য়ালা ঘোষণা করেন। মুমিনগণ,জুমুয়ার দিনে যখন সালাত আদায়ের জন্য আজান দেওয়া হয়,তখন তোমরা আল্লাহ স্বরণে ধাবিত হও এবং বেচাকেনা বন্ধ কর। এটিই তোমাদের জন্য উত্তম, যদি তোমরা জানতে। [সূরা জুমুয়া : ৯] রাসু সাঃ এর হদীস থেকে জানা যায়,সপ্তাহের দিনগুলোর মধ্যে জুমুয়ার দিন শ্রেষ্ঠ ও মর্যাদাপূর্ণ। এ দিনে আদম আঃ কে সৃষ্টি করা হয় এবং এ দিনই তাঁকে জান্নাতে প্রবেশ করানো হয়, আবার এ দিনে তাঁকে জান্নাত থেকে এ দুনিয়াতে পাঠানো হয়। এ দিনে কিয়ামত সংঘটিত হবে। এ দিন অধিক মর্যাদাপূর্ণ। এ দিনে তোমরা অধিক পরিমাণে দুরুদ পাঠ করো।তোমরা যখনই দুরুদ পাঠ করবে তা আমার সামনে পেম করা হয়। আমি সঙ্গে সঙ্গে এর জবাব দিই। হাদীসে এসেছে, ★ যে বিনা ওযরে তিন জুমুয়া ছেড়ে দিবে, আল্লাহ তার অন্তরে মোহর মেরে দিবেন। প্রতিমাসেই জুমুয়ার দিন আছে, এ দিনে বিশেষ কিছু ফজিলত এবং আমল রয়েছে। ১___জুমুয়া সপ্তাহের উত্তম দিন ★এ দিনের শ্রেষ্ঠত্ব সম্পর্কে হযরত আবু হুরায়রা রাঃ বর্ণনা করেন, রাসুল সাঃ বলেন, জুমুয়ার দিনের চেয়ে উত্তম ও মহান কোনো দিন নেই। [মাজমাউজ জাওয়ায়িদ:৩০০০১] ২___গোসল করে মসজিদে আগে আগে যাওয়া। কোন ব্যক্তির উপর গোসল ফরজ হলে জুমুআর সালাতের আগে গোসল করা ফরজ। শুধু জুমুআর সালাত নয় যে কোন সালাতের জন্য গোসল ফরজ হয়ে থাকলে তার জন গোসল করা ফরজ। এ ছাগা গোসল ফরজ নয়, এমন ব্যক্তির জন্য জুমুআর দিন গোসল করা সুন্নাত। এ ছাড়া জুমুয়ার দিন গোসল করে আগে আগে মসজদিে যাওয়ার অনেক ফজিলতের কথা হাদীসে আছে। ★ হযরত আবু হুরায়রা রাঃ বর্ণনা করেন ; রাসুল সাঃ বলেন, যে গোসল করে জুমুআর সালাত আদায়ের জন্য মসজিদে এলো, সামর্থ্য অনুযায়ী সালাত পড়ে ইমাম সাহেব খুতবা শেষ করা পর্যন্ত চুপচাপ শুনল এবং ইমাম সাহেবের সঙ্গে সালাত আদায় করল,আল্লাহ তার দুই জুমুআর মধ্যখানে কৃত গুনাহ মাফ করে দেন। সঙ্গে অতিরিক্ত তিন দিনের গুনাহ ও মাফ করে দেন। [সহিহ মুসলিম: ৮৭৫] ৩___জুমুআর দিন রাসুল সাঃ এর উপর বেশি বেশি দুরুদ পড়া রাসুলের নাম শুনে তাঁর উপর দুরুদ পড়া একটি স্বতন্ত্র আমল।এর বেশ কিছু ফজিলত ও রয়েছে। রাসুল সাঃ এর উপর দুরুদ পড়া ও এর ফজিলত সংক্রান্ত অনেক গ্রন্থ সংকলিত হয়েছে অতীতে এবং বর্তমানে। যে ব্যক্তি রাসুল সাঃ এর নাম শনে দুরুদ পড়ে না, একাদিক হাদীসে রাসুল সাঃ তার জন্য বদদোয়া করেছেন। ★হুসাইন ইবনু আলী রাঃ থেকে বর্ণিত ; রাসুল সাঃ বলেন, কৃপণ হলো সে, যার সামনে আমার নাম উল্লেখ করা হলো; কিন্তু আমার উপর দুরুদ পড়লো না। ★হযরত আবু হুরায়রা রাঃ থেকে বর্ণিত; রাসুল সাঃ বলেন ওই ব্যক্তির নাক ধুলোই ধূসরিত হোক, যার সামনে আমার নাম উল্লেখ করা হলো ;কিন্তু সে আমার ওপর দুরুদ পড়লো না। ★বেশি বেশি দরুদ শরিফ পাঠ করা : এই দিনের আরেকটি আমল হচ্ছে নবীজীর ওপর বেশি বেশি দরুদ পাঠ করা। এই মর্মে রাসূল সা: বলেন, তোমরা এই দিনে আমার ওপর অধিক পরিমাণে দরুদ পাঠ করো। কেননা তোমাদের দরুদ আমার সম্মুখে পেশ করা হয়ে থাকে (আবু দাউদ, হাদিস : ১০৪৭)। ★ মসজিদে এসে জিকির, তেলাওয়াত ও ইবাদত ভিন্ন অপ্রয়োজনীয় অন্য কোনো কথা না বলা : হাদিস শরিফে ইরশাদ হয়েছে, নবীজী সা: বলেছেন, জুমার নামাজের খুতবার সময় তুমি যদি তোমার সাথিকে চুপ থাকতে বলো, তবে এটাও তোমার অনর্থক কাজ হবে (বুখারি-হাদিস : ৯০৬)। ৪___জুমুআর দিন দোয়া কবুরের সময় জুমুআর দিনের একটি উল্লেখযোগ্য বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এই দিনে এমন একটা সময় আছে, যখন মুমিন বান্দা কোনো দোয়া করলে মহান আল্লাহ তার দোয়া কবুল করেন। আবু হুরায়রা রা. থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেছেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, জুমার দিনে একটা এমন সময় আছে, যে সময়ে কোনো মুমিন বান্দা আল্লাহর কাছে ভালো কোনো কিছু প্রার্থনা করলে, অবশ্যই আল্লাহ তাকে তা দান করবেন। (সহীহ মুসলিম : ৮৫২, মুসনাদে আহমাদ : ৭১৫১, আস্-সুনানুল কুবরা : ১০২৩৪) জুমার দিনে দোয়া কবুল হওয়ার সে মহামূল্যবান সময় কোনটা? এ সম্পর্কে ৪৫টা মতামত পাওয়া যায়। তবে সর্বাধিক প্রসিদ্ধ মত হলো, আসরের নামাজের পর থেকে মাগরিব পর্যন্ত দোয়া কবুলের সময়। হজরত আনাস (রা.) থেকে একটি হাদিস বর্ণিত হয়েছে। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সা. বলেছেন, জুমার দিনের কাঙ্ক্ষিত সময়টা হলো আসরের পর থেকে সূর্যাস্তের পূর্ব পর্যন্ত। (মুসনাদে ইবনে আবি শাইবা : ৫৪৬০, তিরমিজি : ৪৮৯) ৫___সূরা কাহাফ তেলাওয়াত জুমুআর দিন বিশেষ আমলের মধ্যে আরেকটি হচ্ছে সূরা কাহাফ তেলাওয়াত করা। হজরত আবু সাঈদ খুদরি (রা.) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে বর্ণনা করেন, যে ব্যক্তি জুমার দিন সূরা কাহাফ তিলাওয়াত করবে তার জন্য এক জুমা থেকে অপর জুমা পর্যন্ত নূর হবে। ★আবু সাইদ খুদরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন, যেমনভাবে নাজিল করা হয়েছে, সেভাবে যে ব্যক্তি সূরা কাহাফ পড়বে, তার জন্য সেটা নিজের স্থান থেকে মক্কা পর্যন্ত আলো হবে এবং যে শেষ দশ আয়াত পড়বে, সে দাজ্জালের গণ্ডির বাইরে থাকবে এবং দাজ্জাল তার ওপর কোনোরূপ প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না। (সুনানে নাসাঈ, হাদিস নং : ১০৭২২) মোঃ সাইফুল ইসলাম (কবিরহাট, নোয়াখালী)

Comments

Popular posts from this blog

উত্তর লামছি মানব কল্যাণ যুব সংগঠন এর যুবসমাজের অবক্ষয়ের কারণ ও প্রতিকার নিয়ে এক সভা। ব্যানার

SAIFUL ISLAM OFFICIAL .biography